'সময় থাকতে ভালো হয়ে যা'
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০১-০৭-২০২৬ ০৫:৫৯:১৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০১-০৭-২০২৬ ০৫:৫৯:১৪ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় এক পরিবারের বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে কাফনের কাপড় ও একটি হুমকিমূলক চিরকুট রেখে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রহস্যজনক এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অজ্ঞাত ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা এভাবে হত্যার হুমকি দিয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার (১ জুলাই) উপজেলার পিপরুল ইউনিয়নের বাঁশভাগ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গফুরের বাড়িতে এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত গভীর রাতে কে বা কারা আব্দুল গফুরের বাড়ির গেটের সামনে একটি সাদা কাফনের কাপড় সদৃশ কাপড় রেখে যায়। কাপড়টির সঙ্গে একটি হাতে লেখা চিরকুট সংযুক্ত ছিল। ভোরে পরিবারের সদস্যরা ঘুম থেকে উঠে বাড়ির দরজার সামনে কাপড় ও চিরকুটটি দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন এবং এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
চিরকুটে লেখা ছিল, “সময় থাকতে ভালো হয়ে যা। পরে আর নাও সময় পেতে পারিস। আল্লাহ ছাড়া বাঁচাবার মতো কেউ নাই। অবস্থা খারাপ হওয়ার আগে ভালো হয়ে যা। আল্লাহ তোকে হেদায়েত দিক। মানুষের উপর নির্ভরশীলতা বাদ দিয়ে আল্লাহভীরু হও।”
চিরকুটের ভাষা ধর্মীয় উপদেশের আড়ালে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকির ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে, এর সঙ্গে কাফনের কাপড় রেখে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যরা এটিকে সুস্পষ্ট ভয়ভীতি প্রদর্শন হিসেবে দেখছেন।
ভুক্তভোগী আব্দুল গফুর, আব্দুল বারিকসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের সঙ্গে কারও প্রকাশ্য কোনো বিরোধ নেই। হঠাৎ এমন ঘটনার পর তারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। রাতে পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে পারছেন না। বাড়ির নারী ও শিশুরাও ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে।
তারা বলেন, “আমরা জানি না কে বা কারা এমন কাজ করেছে। আমাদের ভয় দেখিয়ে কী উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায় তাও বুঝতে পারছি না। দরজার সামনে কাফনের কাপড় রেখে যাওয়ার বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। আমরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি, ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।”
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দেয়। অনেকেই এটিকে একটি পরিকল্পিত ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।
এ বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের ধারণা, ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বশত্রুতা কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে রাজি হয়নি পুলিশ।
বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স